সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গোল্ডেন জুবিলি আওয়ার্ড পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তা মেহেরপুরের নিলুফার ইয়াসমিন রুপা দুটি কথা (মাসাদুল সেখ) সোনিয়ার শরীরের ভেতর বেড়ে উঠছে আরেকটি শরীর সাভার ও আশুলিয়ার তিন কারখানাকে ক্ষতিপূরণ ধার্য মেহেরপুরে ইয়েস বাংলাদেশ এর উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ। মেহেরপুরে নিলুফার ইয়াসমিন রুপার বিরুদ্ধে মিথ্য, ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ‘‘যার নাম শুনলে ভয়ে ঘুমিয়ে যেত মায়ের কোলের শিশু’’ সেই রওশন আলী মেহেরপুর কারাগারে গাংনীর রাইপুর ইউনিয়নে নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ গাংনী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন ছিনতাইয়ের পাঁচদিন আগে আমঝুপি নীলকুঠিতে পরিকল্পনা করে ছিনতাইকারীরা

আওয়ামী সরকারের বাজেট মানেই পুতুল খেলাঃ ববি হাজ্জাজ

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ

আওয়ামী সরকারের বাজেট মানেই পুতুল খেলাঃ ববি হাজ্জাজ

আজ ৮ই জুন, ২০২১ ইং রোজঃ মঙ্গলবার রাজধানীর মালিবাগে অবস্থিত দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি কর্তৃক আয়োজিত “প্রস্তাবতি বাজেট ২০২১-২০২২ঃ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এনডিএম এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হুমায়ুন পারভেজ খানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন এনডিএম’র চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব হাজ্জাজ বলেন, “ আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে বাজেট মানেই যেন পুতুল খেলা। জনগণকে উন্নয়নের ফাঁকাবুলি শোনানোর জন্য প্রতিবছর বাজেটের আকার বাড়লেও বাজেট বাস্তবায়নের হার অত্যন্ত হতাশাজনক। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসেই বাজেট বাস্তবায়নের হার কমেছে প্রায় সাড়ে দশ শতাংশ। একইভাবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। যে বিশাল ঘাটতি বাজেট এবার প্রস্তাব করা হয়েছে তা পূরণে সরকারকে বিপুল সংখ্যক অর্থ ঋণ করতে হবে। অন্যদিকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে তা নিতান্তই অবাস্তব এবং হাস্যকর। পণ্য ও সেবা সরবারহের ক্ষেত্রে উৎসে কর বাড়ানো, ৫০ হাজার টাকার বেশি লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলে করা, ১৫ হাজার টাকার বেশি বেতন নগদে না দেয়ার বিধান মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও জটিল এবং ব্যয়বহুল করে তুলবে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে বাংলাদেশের ৫০তম বাজেটে নারী উদ্যোক্তা বা নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য কোন সুসংবাদ নেই। করোনা মহামারীর এই সময়ে নারীরা সবচেয়ে বেশী কাজ হারালেও তাঁদের জন্য কোন বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয় নাই। বাজেট দেখে হতাশ হয়েছে দেশের আবাসন খাত সংশ্লিষ্টরাও। নির্মাণ সামগ্রীর উচ্চমূল্য, আবাসন খাতে ভ্যাট না কমানো এবং মধ্যবিও জনগোষ্ঠীর আবাসন নিশ্চিতে সরকারের কোন উদ্যোগের ঘোষণা না থাকার আবারও প্রমাণিত হয়েছে সরকার জনবান্ধব নয়। চলমান মহামারীর ভিতর ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও এইখাতে বাজেটে কোন নজড় নেই। অন্তত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎসে কর মওকুফ করা গেলেও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা করা সহজ হতো। বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে সামান্য বরাদ্ধ বাড়ানো হলেও এই অর্থ জনকল্যাণে খরচ করার মত দক্ষতা এবং পরিকল্পনা স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয়ের নেই। বেসরকারি শিক্ষকদের জাতীয়করণ এবং করোনাকালে প্রান্তিক পর্যায়ে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার কোন পরিকল্পনা না থাকায় আমরা হতাশ হয়েছি। উচ্চশিক্ষা খাতে গবেষণার জন্য অপ্রতুল বরাদ্ধ, দেশের স্বাস্থ্যশিক্ষা খাতকে আন্তর্জাতিকমানে উন্নতীকরণের জন্য পরিকল্পনা না থাকা, মাঝারি এবং ভারী শিল্পে দেশীয় প্রযুক্তিতে নতুন উদ্ভাবনের উদ্যোগ না থাকা, প্রাথমিক শিক্ষকদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা না থাকায় বোঝা যায় শিক্ষাখাত নিয়ে সরকারের দূরদর্শী কোন চিন্তা নেই। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার কথা বললেও যে লক্ষ্যমাত্রা তিনি নির্ধারণ করেছেন, মাসে ২৫ লাখ করে টিকা দিলেও তাতে সময় লাগবে প্রায় এক দশক। দেশের কৃষিখাতের আধুনিকায়ন এবং কৃষকের স্বার্থরক্ষা করতে বরাবরের মতই ব্যর্থ হয়েছে এই সরকার। কৃষকের কৃষিযন্ত্র ক্রয়ে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তার ঘোষণা থাকলেও মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। কৃষিবাজার স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হলেও কৃষিপণ্যের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিতে সরকারের ব্যর্থতায় গ্রামীণ পর্যায়ে কৃষি অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। খোলা জলাশয়ে মাছ চাষের ব্যাপারে বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্ধ নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় শুধু গালগল্পই শোনানো হয়েছে এই বাজেটে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো বড় উদ্যোগে বিনিয়োগে একদিকে যেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না, অন্যদিকে সরকারের ঋণ নির্ভরতার কারণে বেসরকারিখাতে অর্থপ্রবাহ কমছে। ফলে এবারের বাজেটও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সহায়ক হবে না। দেশের হতদরিদ্র এবং প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সহায়তার জন্য বরাদ্ধ বৃদ্ধি না করার ফলে কোনদিক থেকেই এই বাজেটের চেহারা মানবিক হয় নাই”।

উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন এনডিএম এর যুগ্ম মহাসচিব মোমিনুল আমিন। এছাড়াও বিশেষ বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন নুরুজ্জামান হীরা। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোমিনুল ইসলাম, মোঃ আবু সায়েম, ফেনী জেলার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোঃ নূর উল্লাহ, যুব আন্দোলন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য আদনান সানি, ছাত্র আন্দোলন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মাসুদ রানা জুয়েল প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনডিএম এর যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহাদাত হোসেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন