সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গোল্ডেন জুবিলি আওয়ার্ড পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তা মেহেরপুরের নিলুফার ইয়াসমিন রুপা দুটি কথা (মাসাদুল সেখ) সোনিয়ার শরীরের ভেতর বেড়ে উঠছে আরেকটি শরীর সাভার ও আশুলিয়ার তিন কারখানাকে ক্ষতিপূরণ ধার্য মেহেরপুরে ইয়েস বাংলাদেশ এর উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ। মেহেরপুরে নিলুফার ইয়াসমিন রুপার বিরুদ্ধে মিথ্য, ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ‘‘যার নাম শুনলে ভয়ে ঘুমিয়ে যেত মায়ের কোলের শিশু’’ সেই রওশন আলী মেহেরপুর কারাগারে গাংনীর রাইপুর ইউনিয়নে নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ গাংনী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন ছিনতাইয়ের পাঁচদিন আগে আমঝুপি নীলকুঠিতে পরিকল্পনা করে ছিনতাইকারীরা

ধামরাইয়ে ছাত্রলীগের কমিটি ‘দখল চেষ্টায়’ বিতর্কিত কাণ্ড!

মোঃ শান্ত খান ঢাকা জেলা প্রতিনিধি

ঢাকার ধামরাইয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ ও তার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা। তবে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কমিটি দখলে রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ্য অর্জনে বানোয়াট ইস্যু তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আহ্বায়ক কমিটির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল আওয়াল রুবেল।

এ ঘটনার অনুসন্ধান করেছে দৈনিক মানবকণ্ঠ। এতে বেরিয়ে এসেছে পুরো বিষয়ের পেছনের ঘটনা।

জানা যায়, ১৮ বছর পর ২০১৯ সালের ২৩ মে মিদুল মাহমুদ সাদ্দামকে আহ্বায়ক ও রবিউল আওয়াল রুবেলকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এরপর গতবছরের (২০২০) ৪ অক্টোবর মিদুল মাহমুদ সাদ্দাম মারা গেলে কমিটির শীর্ষ নেতার জায়গায় উঠে আসেন রবিউল আওয়াল রুবেল। এরপর থেকেই ছাত্রলীগের ব্যানারে নিয়মিত বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন তিনি ও তার সমর্থকরা। শুরুতে বিভক্তিহীনভাবে কর্মসুচি পালন করলেও আহ্বায়কের মৃত্যুর পর সামনে চলে আসে বিবাদ।

আলাদাভাবে ধামরাইয়ের এমপি বেনজির আহমেদের অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সাকুর ছেলে আদনান হোসেন ও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি শামিম এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। আরেক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল আওয়াল রুবেল।

তবে সম্প্রতি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ধামরাইয়ে ছাত্রলীগের কমিটি দ্রুত করার নির্দেশ দিলে বদলে যেতে থাকে রাজনীতির চিত্র। সাবেক এমপি এমএ মালেকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত রবিউল আওয়াল রুবেল এমপি বেনজির আহমেদের বিভিন্ন কর্মসুচিতে অংশ নিতে থাকেন। এছাড়া এমপির অনুসারী আওয়ামী লীগের নেতারাও যোগ দেন ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে। এসময় বিবাদ ভুলে রুবেলের নেতৃত্বে কর্মসূচিতে অংশ নিতে থাকেন উপজেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যাশী আদনান হোসেনসহ একাংশ।

সংকটের শুরু যেখানে

সম্প্রতি ধামরাইয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে রুবেল দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বিরোধী বক্তব্য দেয়ার পর গত ২২ মে তাকে থানায় ডেকে ভৎসর্ণা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সাকু। এসব বক্তব্য দেয়া বন্ধ ও ছাত্রলীগের নামে কোন কর্মসুচি করতে নিষেধ করেন তিনি। তবে সেখানে নিজের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন রুবেল।

এর একদিন পরেই (২৩ মে) রুবেলের রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের এক্সেল লোড কন্ট্রোলের পশ্চিম পাড়ে তার হাতে মরধরের অভিযোগ তোলেন মোঃ জামিল নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী। সে আদনানের অনুসারী বলে পরিচিত। এ অভিযোগের পর রুবেলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ ও পরেরদিন ধামরাই প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল করেন ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা।

এছাড়া রুবেলকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সাকু।

জানতে চাইলে ধামরাই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন বলেন, ছাত্রলীগের ভেতরে এমন ঘটনায় আমি সাবেক নেতা হিসেবে বিব্রত ও ব্যথিত। তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে সেটাই আশা করি।

মারধরের ঘটনাস্থলে গিয়ে যা জানা গেল

গত ২৩ মে ধামরাই থানায় মারধর ও হত্যাচেষ্টার যে অভিযোগ মোঃ জামিল দায়ের করেছেন তাতে তিনি লিখেছেন ঘটনাস্থল বাথুলি এক্সেল লোড কন্ট্রোলের পশ্চিম পাড় ও রুবেলের রাজনৈতিক কার্যালয়।

আজকের নিউজ২৪ এর প্রতিনিধির কথা হয় সেখানকার দোকানদারদের সঙ্গে। ঘটনাস্থলের বিপরীতে মীম স্টোরের মালিক ওবায়দুল্লাহ। কয়েকদিনের মধ্যে মারামারি বা কোন জটলা দেখেছেন কি না জানতে চাইলে তিনিসহ আশপাশের কয়েকজন দোকানদার বলেন, এই জায়গায় বাসের চেকার, হাইওয়ে পুলিশ ও স্কেলের মানুষজন থাকার কারণে কখনোই জনসমাগম হয় না। একটু বেশি মানুষ হলেও আমরা দেখতে পাই। গত আট দশদিনেও এমন কিছু দেখিনি।

লিখিত অভিযোগে জামিল বলেছেন, সন্ধ্যা ৭টা ৩০ এর দিকে রুবেলের লোকজন তার গতিরোধ করে মারধর করতে করতে ছাত্রলীগের অফিসে নিয়ে যায়। তবে রুবেলের অফিস ও এক্সেল লোড কন্ট্রোলের সিসিটিভি ফুটেজেও জামিলকে মারধরের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যা ৭টা ৩০ এর দিকে জামিল নিজের মোটর সাইকেলযোগে বারবারিয়ার পাশের সিসিটিভি থেকে বাথুলির পাশের সিসিটিভি পাড় করেন মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই। সেদিন রুবেলের অফিসও বন্ধ করে ফেলা হয় সন্ধা ৬টার দিকে।

ঘটনার সময় বাড়িতে বসে ভাত খাচ্ছিলেন বলে জানান রুবেল। রুবেলের মা রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘রুবেল ভাত খাচ্ছিল। এসময় তার ফোনে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন ফোন করে জানতে চায় সে জামিলকে মেরেছে কি না। এসময় রুবেল বলে ভাই আমি ভাত খাচ্ছি। ভিডিও কল দেই দেখেন। তবে সিরাজ ভিডিও কলে না এসে ফোন কেটে দেয়।’

এবিষয়ে ধামরাই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন বলেন, আমি কয়েকজন নেতাকর্মীর কাছে ঘটনাটি শুনতে পাই। পরে রুবেলকে কল দিয়ে জানতে চাইলে সে জানায় সে বাড়িতে ভাত খাচ্ছে। এরপর দেখি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন